“রেপ মামলার ফাইল খুলবে, দুর্নীতিবাজরা জেলে যাবে!” হলদিয়ায় মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি মোদীর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মাটিতে জয়ের লক্ষ্যে বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ হলদিয়ার জনসভা থেকে তিনি বাংলার মানুষের জন্য ‘৬টি গ্যারান্টি’ ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলোর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ইস্যুতে বর্তমান শাসকদলকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
সপ্তম পে কমিশন ও সরকারি কর্মচারীদের উন্নয়ন
প্রধানমন্ত্রী আজ হলদিয়ার মঞ্চ থেকে বাংলার সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত ‘সপ্তম পে কমিশন’ কার্যকর করা হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কর্মীদের অসন্তোষ দূর হবে এবং তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। নিয়মিত নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজ্যে চলা ‘রোজগার মেলা’ বাংলাতেও শুরু করার কথা বলেন তিনি।
দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আগের সমস্ত দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের ঘটনার ফাইল পুনরায় খোলা হবে। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে তিনি যে গ্যারান্টিগুলো দিয়েছেন তা হলো:
- দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, সে তিনি মন্ত্রী হোন বা প্রভাবশালী নেতা, কারোরই ছাড় হবে না এবং তাঁদের ঠাঁই হবে জেলে।
- তৃণমূল জমানার কোনো ‘গুণ্ডা’ বা আইনভঙ্গকারীকে রেহাই দেওয়া হবে না।
- সরকারি ব্যবস্থাকে জনমুখী করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসন জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।
শরণার্থী অধিকার ও অনুপ্রবেশ রোধ
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতে আসা শরণার্থীদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়েও তিনি তাঁর অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দেশকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার জনবিন্যাস বজায় রাখতে এটি বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শিল্পায়ন ও স্বনির্ভর বাংলার স্বপ্ন
বাংলার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাটমানি সংস্কৃতির কারণে রাজ্যে শিল্প আসছে না। নতুন কো ম্পা নি খুলতে গেলেও বাধা পেতে হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো এখানেও শিল্পের জোয়ার আসবে। এছাড়া মাছ চাষে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষিদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ৫ বছর আগের নন্দীগ্রামের ফলাফল স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, এবারও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নন্দীগ্রামের মতো ফল এবার ভবানীপুরেও দেখা যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
একঝলকে মোদীর ৬ গ্যারান্টি
- ভয়মুক্ত পরিবেশ: সাধারণ মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনা।
- জবাবদিহি: সরকারি সিস্টেমকে জনতার কাছে দায়বদ্ধ করা।
- দুর্নীতির বিচার: পুরনো সমস্ত দুর্নীতি ও অপরাধের ফাইল খুলে তদন্ত।
- কঠোর শাস্তি: দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের জেলের সাজা নিশ্চিত করা।
- অধিকার ও নিরাপত্তা: শরণার্থীদের অধিকার প্রদান এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
- বেতন বৃদ্ধি: সপ্তম পে কমিশন লাগু করে সরকারি কর্মীদের মাইনে বাড়ানো।