রোহিঙ্গা শিবিরে চরম খাদ্য সংকট: মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ১২ লাখ শরণার্থী

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিদেশি অনুদান কমে যাওয়ায় খাদ্য সহায়তা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে ১২ লাখ শরণার্থী চরম জীবনসংকটে পড়েছেন। ব্রিটেনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জনপ্রতি মাসিক বরাদ্দ মাত্র ১২ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নতুন ধাপভিত্তিক নীতি অনুযায়ী, শিবিরের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ এখন মাসে মাত্র ৭ ডলার করে সহায়তা পাবেন, যা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে একেবারেই অপর্যাপ্ত।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযান থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীরা সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে আইনত কাজ করার সুযোগ না থাকায় খাদ্য বরাদ্দ কমানোর এই সিদ্ধান্ত শিবিরে হাহাকার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
সহায়তা কমে যাওয়ায় শিবিরে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং অপহরণের মতো অপরাধমূলক প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের মাত্র ১৯ শতাংশ বরাদ্দ মেলায় শিক্ষা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিবিরের বাসিন্দারা ‘খাদ্য অধিকার’ নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। ক্ষুধার্ত ও অসহায় এই জনগোষ্ঠী এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।