লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার যুবসাথী ম্যাজিক! বিরোধীদের ঘুম ওড়ালো দেড় হাজার টাকা

নির্বাচন ঘোষণার আগেই তুরুপের তাস চাললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি আর যুবসাথী প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে। আর এই ‘ভাতা রাজনীতি’ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। বিরোধীরা যখন এই প্রকল্পগুলোকে কটাক্ষ করছেন, ঠিক তখনই বাঁকুড়া থেকে নন্দকুমার— সর্বত্রই ছবিটা অন্যরকম।
সংসারে এখন ‘মিলিজুলি’ রাজনীতির হাওয়া
বেলিয়াতোড়ের চায়ের দোকানে আড্ডার মেজাজ বদলে দিচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বাড়ির মহিলারা এখন আর স্বামীদের কথা শুনে ভোট দেন না। বরং তাঁরা নিজেরাই এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। এক গ্রামবাসীর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জোরে গিন্নি এখন মিটিংয়ে যেতে রান্না ফেলে খুন্তি আমার হাতে ধরিয়ে দেয়!” এই মন্তব্যেই স্পষ্ট যে, ভোটবাক্সে মহিলাদের প্রভাব কতটা বাড়তে চলেছে।
ভাতা নাকি লাইফ-লাইন?
বিরোধীদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে ‘পঙ্গু’ করছেন। তবে সাধারণ মানুষের পালটা যুক্তি নজর কাড়বার মতো। আদ্রা স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এক যুবক সপাটে জানালেন, “সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবি সমর্থন করলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু প্রান্তিক মানুষের জন্য যুবসাথী দিলেই যত জ্বালা? ওটা যদি ভাতা হয়, এটাও ভাতা। তফাত শুধু একটাই— ওদের ভাতা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ায়, আর আমাদের ভাতায় সংসার চলে।”
এবারের নির্বাচনে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ যে সামাজিক প্রকল্পগুলোই হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। গ্রামবাংলার মানুষের কাছে এই টাকা স্রেফ সরকারি সাহায্য নয়, বরং কঠিন সময়ে টিকে থাকার এক মজবুত ‘লাইফ-লাইন’। শেষ পর্যন্ত এই ‘ভাতা কার্ড’ তৃণমূলকে কতটা ডিভিডেন্ড দেয়, সেটাই এখন দেখার।