লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি আসলে ললিপপ? মমতার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন দুশ্চিন্তায় বাংলার মহিলারা? জানুন আসল সত্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি আসলে ললিপপ? মমতার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন দুশ্চিন্তায় বাংলার মহিলারা? জানুন আসল সত্য

রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার শুরু হলো নতুন বিতর্ক। একদিকে যখন হাজার হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, অন্যদিকে তখন প্রশ্ন উঠছে এটি কি দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির চাবিকাঠি নাকি শুধুই এক সাময়িক স্বস্তি? সরকারি সাহায্য কি মহিলাদের স্বাবলম্বী করছে নাকি এক নতুন নির্ভরতার ফাঁদ তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে চর্চা।

গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই এই প্রকল্প নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। মীনা দাসের মতো অনেক গ্রামীণ মহিলার কাছে এই টাকা এখন স্বাধীনতার প্রতীক। তাঁদের মতে, ছোটখাটো হাতখরচ বা সন্তানের পড়াশোনার জন্য এখন আর পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় দিক।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সরাসরি নগদ সাহায্য কর্মসংস্থানের বিকল্প হতে পারে না। ভাতার ওপর অত্যধিক নির্ভরতা ভবিষ্যতে বড়সড় অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বিরোধীরাও একে ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

বাস্তব চিত্র বলছে, অনেকে এই টাকা জমিয়ে সেলাই বা ছোট ব্যবসা শুরু করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দৈনন্দিন খরচেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সত্যিই কি সামাজিক বিপ্লব আনবে নাকি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *