লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না কি মতুয়া আবেগ, কল্যাণীতে পদ্ম হঠাতে মরিয়া ঘাসফুল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কল্যাণীতে জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্র পুনরুদ্ধারকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই ময়দানে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে নেমেছেন ঘাসফুলের প্রার্থী ডাঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল। গত নির্বাচনে নামমাত্র ব্যবধানে হারা এই আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া শাসকদল। বিশেষ করে এসআইআর এবং মতুয়া প্রধান এলাকাগুলিতে ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনে নেমেছে তারা।
তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান অরূপ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদরা তহবিলের টাকা খরচ করতে পারেননি। উল্টে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মাঠ ফাঁকা থাকলেও গোল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বিজেপিকে। এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় প্রবল চাপে রয়েছে পদ্ম শিবির। দেওয়াল দখল হলেও প্রার্থীর নাম লেখার জো নেই। এর মধ্যেই বর্তমান বিধায়ক অম্বিকা রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতায় রাজ্য দপ্তরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দলেরই একাংশ। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, কল্যাণী এখন বিজেপির শক্ত ঘাঁটি এবং দল যাকে টিকিট দেবে তিনিই জিতবেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত লোকসভা নির্বাচনে এখানে ৯ হাজার ভোটের লিড ছিল বিজেপির। সেই কঠিন গড় ভাঙাই এখন তৃণমূলের বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে শাসক ও বিরোধী তরজার মাঝে নিঃশব্দে জমি গোছাচ্ছে বামেরাও। সিপিএম প্রার্থী সবুজ দাস ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কল্যাণীর তপ্ত গরমে ভোটের পারদ এখন তুঙ্গে।