লক্ষ্মীর ভান্ডার ও মমতার ১০ প্রতিশ্রুতিই ভরসা, সোনারপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ফিরদৌসী

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে তৃণমূল নেত্রীর জনমুখী প্রকল্পগুলোকেই প্রধান হাতিয়ার করছে রাজ্যের শাসক দল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগম প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলোকেই মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। ২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রের বিধায়ক থাকা ফিরদৌসী এবারও নিজের জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী।
যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকাটি আধা-শহুরে চরিত্রের। এখানে গত কয়েক বছরে দ্রুত নগরায়ন হয়েছে এবং প্রচুর বহুতল আবাসন গড়ে উঠেছে। যদিও রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং গণপরিবহণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। বিধায়ক নিজেও স্বীকার করেছেন যে এলাকায় আরও অনেক কাজ করা বাকি আছে। তবে এই আসাম্পূর্ণ কাজের চেয়েও দিদির উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো ভোটারদের বেশি প্রভাবিত করবে বলে মনে করছে তৃণমূল শিবির।
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এবার প্রতিটি জনসভায় ভোটের শতাংশ ও জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ফিরদৌসী বেগম প্রায় ৩৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে আরও বড় জয় নিশ্চিত করতে তিনি বুথে বুথে প্রচার চালাচ্ছেন। বিশেষত ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের জল নিকাশি সমস্যা মেটাতে পাম্প বসানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং বাসের সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনী রণকৌশল হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০টি মূল প্রতিশ্রুতি এখন তৃণমূলের প্রধান সম্বল। বিরোধীরা যখন এলাকার পরিকাঠামোগত খামতিগুলোকে ইস্যু করে প্রচার চালাচ্ছে, তখন ফিরদৌসী বেগম মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন সরকারি পরিষেবার খতিয়ান নিয়ে। ভোটারদের একাংশের মতে, স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ থাকলেও সরকারি প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাওয়া মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত জোড়া ফুলেই আস্থা রাখতে পারেন।
তবে এবারের নির্বাচনে সোনারপুর উত্তরের লড়াই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এসআইআর-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ পড়ায় ভোট সমীকরণ কিছুটা জটিল হতে পারে। তবুও দেয়াল লিখন থেকে শুরু করে জনসংযোগ— সবক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকতে চাইছে তৃণমূল। চতুর্থবারের মতো রাজ্যে সরকার গড়তে এবং জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি করতে তৃণমূলের কাছে এখন মমতার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোই তুরুপের তাস।