লখনউ হবে জঞ্জালমুক্ত ও দূষণহীন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত ধরে রাস্তায় নামছে ২৫০টি নতুন গাড়ি

লখনউ হবে জঞ্জালমুক্ত ও দূষণহীন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাত ধরে রাস্তায় নামছে ২৫০টি নতুন গাড়ি

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট এবং পরিবেশবান্ধব বিশ্বমানের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল যোগী সরকার। বুধবার লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্য ২৫০টি নতুন ইলেকট্রিক এবং সিএনজি চালিত গাড়ির যাত্রার শুভ সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আধুনিক এই যানগুলো লখনউয়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এক নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে হেঁটে উত্তরপ্রদেশ এখন ‘জিরো ওয়েস্ট টু জিরো কার্বন এমিশন’-এর লক্ষ্য পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, নতুন উত্তরপ্রদেশ নিজেকে একটি স্মার্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের নগর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। লখনউয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বা ‘ইজ অফ লিভিং’ নিশ্চিত করতেই এই ২৫০টি পরিবেশবান্ধব গাড়ি রাস্তায় নামানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা মূলত দূষণমুক্ত নগরায়ন প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন গাড়িগুলোকে ‘ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের’ উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ কেবল পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি সরকারের যে গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে, তাকেও প্রতিফলিত করবে। ইলেকট্রিক ও সিএনজি চালিত যানের ব্যবহারের ফলে শহরের বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যা লখনউকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলবে। সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ শহরবাসীর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা নেবে।

শহরের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জনহিতকর কাজেও সমানভাবে তৎপর। সম্প্রতি তিনি তাঁর সরকারি বাসভবনে ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনেছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের প্রতিটি সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই সরাসরি জনসংযোগ সরকারি প্রকল্পের সুফল তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে সহায়ক হচ্ছে।

রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাফল্যের খতিয়ানও তুলে ধরেন। গত ৯ বছরে রাজ্যে প্রায় ৯ লক্ষ সরকারি চাকরি প্রদান করা হয়েছে, যা একটি নজিরবিহীন রেকর্ড। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, বিরোধী পক্ষও এই কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে না। ৬৬৫ জন নার্সিং অফিসারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ এখন উন্নয়নের এক নতুন দিশারি হিসেবে কাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *