লস্কর কমান্ডার বিলাল আরিফ সালাফিকে সদর দফতরে নৃশংস হত্যা

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে শহরে লস্কর-ই-তইবার প্রধান কার্যালয় ‘মারকাজ তইবা’-র ভেতরেই খতম হলো শীর্ষ কমান্ডার বিলাল আরিফ সালাফি। শনিবার ঈদের নামাজের পরপরই অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা সংগঠনের দুর্ভেদ্য এই ঘাঁটিতে প্রবেশ করে সালাফিকে প্রথমে গুলি এবং পরে জনসমক্ষেই একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে লুটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এই কার্যালয়টি ২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ধ্বংস হওয়ার পর পুনরায় নির্মিত হয়েছিল।
বিলাল আরিফ সালাফি লস্করের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিল। সে মূলত পাকিস্তানজুড়ে তরুণদের মগজধোলাই করে ‘কাশ্মীর জিহাদ’ এজেন্ডার জন্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের গুরুদায়িত্ব পালন করত। সংগঠনের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সালাফির মৃত্যু লস্কর-ই-তইবার জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর খুনের নেপথ্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং লস্করের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। মুরিদকের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলে ঢুকে যেভাবে দক্ষ হাতে এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে, তাতে এই হত্যাকাণ্ডটি লস্কর শিবিরের ভেতরেই চরম আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।