লাইভ টিভিতে ধরা পড়ল সাংবাদিকের ধূমপান, পিএসএলের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

পাকিস্তান সুপার লিগ বা পিএসএল ২০২৬ যেন বিতর্কের নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে এই লিগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সম্প্রতি একটি লাইভ ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যেখানে গ্যালারিতে বসে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যেই ধূমপান করতে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খেলোয়াড় সুলভ পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে এক ব্যক্তি আয়েশ করে ধূমপান করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্রডকাস্টিং ক্যামেরা তার দিকে ঘুরলে তিনি দৃশ্যত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। দ্রুত সেখান থেকে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং হাতের সিগারেটটি আড়াল করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে এই দৃশ্য সরাসরি টিভির পর্দায় ধরা পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকেই সরাসরি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
ধূমপান করা ওই ব্যক্তিকে এজাজ ওয়াসিম বখরি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি পেশায় একজন ক্রীড়া সাংবাদিক। স্টেডিয়ামের মতো সুরক্ষিত এবং জনাকীর্ণ স্থানে যেখানে ধূমপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে একজন সংবাদকর্মী কীভাবে সিগারেট নিয়ে প্রবেশ করলেন এবং প্রকাশ্যেই নেশা করলেন, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা বলয় এবং তল্লাশি প্রক্রিয়া কতটা শিথিল, এই ঘটনাই তার সবথেকে বড় প্রমাণ।
পিএসএলে ধূমপানের বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমকেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ড্রেসিংরুমে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময়েও ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র নিন্দা হয়েছিল। বারবার একই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটার ফলে পাকিস্তান সুপার লিগের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাংবাদিক—সকলের ক্ষেত্রেই নিয়মের এই শিথিলতা টুর্নামেন্টের মান নিম্নমুখী করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এবারের পিএসএল শুরু থেকেই নানা অপ্রীতিকর কারণে সংবাদ শিরোনামে রয়েছে। বল ট্যাম্পারিং বা বল বিকৃতির অভিযোগে ফখর জামানকে ইতিমধ্যেই দুই ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। এছাড়া মাঠের সরঞ্জাম ও জার্সির মান নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা এই সমস্ত নেতিবাচক ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করছে। এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিকের এই বিতর্কিত কাণ্ডে বোর্ড কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।