লোন ইএমআই-তে কি মিলবে স্বস্তি? ইরান যুদ্ধ ও আকাশছোঁয়া তেলের দামের চাপে বিপাকে আরবিআই

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া অস্থিরতার আবহে আজ সোমবার থেকে শুরু হলো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) মুদ্রানীতি কমিটির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা বৈঠক। দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে ঋণগ্রহীতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর। সবার মনে একটাই প্রশ্ন— হোম লোন বা কার লোনের ইএমআই কি এবার কমবে, নাকি মুদ্রাস্ফীতির চাপে বাড়বে ঋণের বোঝা? আগামী ৮ এপ্রিল, বুধবার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বৈঠকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) তাদের সাম্প্রতিক রিসার্চ রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এবারের মুদ্রানীতি বৈঠকে রেপো রেট কমার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। উল্টে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন আরবিআই-কে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১২ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানির ওপর। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য রেকর্ড ৯৩-এর গণ্ডি অতিক্রম করেছে। আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি বা ‘ইমপোর্টেড ইনফ্লেশন’ ইতিমধ্যেই ৫.৪ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখন সুদের হার কমিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
এসবিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে আরবিআই-এর মূল লক্ষ্য হলো বাজারে নগদের জোগান ঠিক রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খাদ্যদ্রব্য এবং জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সুদের হার কমালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে রেপো রেট বর্তমানে যে স্তরে আছে, তা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এর অর্থ হলো, হোম লোন বা অন্যান্য ঋণের ইএমআই কমার যে আশা সাধারণ মানুষ করেছিলেন, তা আপাতত পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যতক্ষণ না বিশ্ব বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হচ্ছে, ততক্ষণ সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে না কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ৮ এপ্রিলের ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টর এবং অটোমোবাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ। আপাতত নজর থাকছে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ভাষণের দিকে, যেখানে তিনি আগামী দিনের মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা এবং আর্থিক বৃদ্ধির ভারসাম্য রক্ষার নীল নকশা তুলে ধরবেন।