শতবর্ষের ভোট-স্মৃতি: নাটকের দর্পণে সেকালের নির্বাচনী রাজনীতি

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কলকাতার পুরসভা নির্বাচনেও আজকের মতোই দুর্নীতি ও পেশিশক্তির দাপট ছিল। প্রখ্যাত নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অগ্রন্থিত নাটক ‘ইলেকশন’-এর সংলাপে ১৯২০-২৫ সালের সেই সময়ের ভোট চুরির চিত্র ফুটে উঠেছে। আভিজাত্য ও আদর্শের আড়ালে তখন চলত দেদার ঘুষ, জালিয়াতি এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা। নাটকটি তথাকথিত শিক্ষিত ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক কলুষতাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছিল।
নির্বাচনী ইতিহাসের পাতায় ১৯৬৭ সালের পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নির্বাচন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন নিজের কেন্দ্র আরামবাগে অজয় মুখোপাধ্যায়ের কাছে মাত্র ৮০০ ভোটে পরাজিত হন। নেতার প্রতি জনরোষ এতটাই তীব্র ছিল যে, শহরজুড়ে ‘কাঁচকলা’ প্রদর্শন করে বিদ্রূপ করা হয়েছিল। তবে পরাজয় সত্ত্বেও প্রফুল্ল সেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছিল অনুকরণীয়। তিনি মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়েছিলেন এবং সংগঠনের কাজে ফেরার অঙ্গীকার করেছিলেন।
তৎকালীন রাজনীতির বিশেষত্ব ছিল নেতাদের মধ্যকার গভীর ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধ। প্রফুল্ল সেনের পরাজয়ে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অজয় মুখোপাধ্যায়ও ব্যথিত হয়েছিলেন। একইভাবে বিধানচন্দ্র রায়ের মন্ত্রিসভায় প্রফুল্ল সেনের গুরুত্ব বা অতুল্য ঘোষের সাথে তাঁর নীতিগত মতপার্থক্য—সবই ছিল এক আদর্শিক লড়াই। সেই যুগে রাজনীতির ময়দানে কড়া বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগত তিক্ততা বা ষড়যন্ত্রের চেয়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকেই অধিক প্রাধান্য দেওয়া হতো।