শত্রু দেশের জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী, কড়া বার্তা ইরানের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কড়া অবস্থান নিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শত্রু দেশ বা আগ্রাসনকারীদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনো জাহাজকে এই কৌশলগত জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে জানান, কেবলমাত্র বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত এবং অবন্ধুত্বসুলভ নয় এমন জাহাজগুলোই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাঘাই আরও বলেন, যুদ্ধ ও আলোচনার এই চক্র ইরান অনন্তকাল সহ্য করবে না। গত বছরের সংঘাত এবং ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার রেশ টেনে তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের বিরতির পর পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইরানের এমন অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের ৩৫টি দেশের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ বিকেলে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে এই জলপথটি পুনরায় সচল করার জন্য ব্যবহারিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এই জোটের লক্ষ্য।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সংকট নিরসনের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, ইরান যেহেতু ‘শত্রু দেশগুলোর’ জন্য এই পথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে, তাই আলোচনা খুব একটা সহজ হবে না। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে এই সংকটের সমাধান খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করা সময়সাপেক্ষ বিষয় হতে পারে। কারণ হিসেবে ওই জলসীমায় পেতে রাখা মাইন অপসারণের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরা সংঘাত পরবর্তী সময়ে এই সমুদ্রপথকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের কথা বললেও, বাস্তব পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।