শবরীমালা বিতর্ক প্রথা বনাম অধিকার লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় মন্তব্য কেন্দ্রের

কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে দাখিল করা লিখিত জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সের মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো লিঙ্গ বৈষম্য নয়। বরং এটি ধর্মীয় রীতি, ঐতিহ্য এবং ভগবান আয়াপ্পার ‘নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী’ স্বরূপের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। কোনো অপবিত্রতা বা হীনম্মন্যতার ভাবনা থেকে এই নিয়ম তৈরি হয়নি।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের শুনানিতে বলেন, মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দিলে মন্দিরের মূল পূজাপদ্ধতির চরিত্র বদলে যাবে। এর ফলে সংবিধান স্বীকৃত ধর্মীয় বহুত্ববাদ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরুষ ও মহিলা উভয় ভক্তই বহু শতাব্দী ধরে মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত রীতি মেনে ভগবান আয়াপ্পার আরাধনা করে আসছেন। তাই এই ঐতিহ্যের মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন ঋতুযোগ্য মহিলাদের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। সরকারের যুক্তি, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের স্বায়ত্তশাসনের অধীনে পড়ে। তাই একে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় আনা উচিত নয়। কেন্দ্র সতর্ক করে জানিয়েছে, ধর্মীয় আচার-আচরণকে ‘যৌক্তিকতা’ বা ‘আধুনিকতা’ দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না।
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে যে, কোনো প্রথা কতটা যুক্তিপূর্ণ তা বিচার করা সাংবিধানিক পর্যালোচনার অংশ হতে পারে না। আদালতের নিজস্ব দার্শনিক চিন্তাভাবনা কোনো ধর্মের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বিচারকদের ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাখ্যা করার প্রশিক্ষণ নেই এবং এ ধরনের স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামোও আদালতের হাতে নেই।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সব বয়সের মহিলাদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পুনর্বিবেচনা পিটিশনগুলোর শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র এই কড়া অবস্থান নিল। কেন্দ্র মনে করে, বিজ্ঞান বা আধুনিকতার মানদণ্ডে ধর্মীয় অনুশাসনকে মাপা হলে মন্দিরের পবিত্রতা ও স্বতন্ত্রতা নষ্ট হতে পারে।