শব্দ নয় শক্তি ভারত মহাসাগরে দাপট বাড়াতে নৌসেনার হাতে এল পরমাণু ডুবোজাহাজ আইএনএস অরিদম

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় নৌসেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হল পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন আইএনএস অরিদম। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তারাগিরিকেও। এই জোড়া অন্তর্ভুক্তির ফলে জলপথে ভারতের রণকৌশলগত শক্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার বিশাখাপত্তনমে এই কমিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আইএনএস অরিদম সম্পর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, অরিদম কেবল শব্দ নয়, এটি ভারতের অপ্রতিরোধ্য শক্তি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও এই অর্জনের প্রশংসা করে একে ভারতের অজেয় সাহসের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা পরমাণু ত্রয়ীকে আরও শক্তিশালী করতে এই ডুবোজাহাজ বড় ভূমিকা নেবে।
আইএনএস অরিদম মূলত ভারতের এসএসবিএন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত তৃতীয় দেশীয় পরমাণু সাবমেরিন। এর আগে আইএনএস আরিহন্ত এবং আইএনএস অরিঘাত নৌসেনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই ডুবোজাহাজের ফলে ভারত বিশ্বের সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করল, যাদের কাছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। এটি শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে থাকতে সক্ষম এবং দূরপাল্লার মিসাইল ছুড়তে পারদর্শী।
একই দিনে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া আইএনএস তারাগিরি একটি বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ। পি-১৭-এ ক্লাসের চতুর্থ এই জাহাজটি মাল্টি-রোল অপারেশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষা, জলদস্যু দমন অভিযান, উপকূলীয় নজরদারি এবং মানবিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত সহায়তায় এটি ব্যবহার করা হবে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজটি ডিজাইন করেছে ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং নির্মাণ করেছে মাজগাও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতে, আইএনএস তারাগিরি কেবল একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, এটি ভারতের স্বনির্ভরতা ও নৌ-শক্তির প্রতীক। এই জাহাজের প্রায় ৭৫ শতাংশ অংশই সম্পূর্ণ দেশীয়। এটি প্রমাণ করে যে ভারত এখন জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল আমদানিকারক নয়, বরং উৎপাদক হিসেবেও বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। এই নতুন অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা বলয় আগের চেয়ে অনেক বেশি নিশ্ছিদ্র হবে।