”শরীরের মাংস খুবলে নেওয়ার মতো আবদার!” ১ লক্ষ টাকা আয় করেও স্বামীর কাছে খোরপোশ চাইল স্ত্রী, তুলোধনা করল হাইকোর্ট

”শরীরের মাংস খুবলে নেওয়ার মতো আবদার!” ১ লক্ষ টাকা আয় করেও স্বামীর কাছে খোরপোশ চাইল স্ত্রী, তুলোধনা করল হাইকোর্ট

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। মাসে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করা স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে খোরপোশ বা মেইনটেন্যান্স দাবি করেন, তবে তা অন্যায়। আদালত এই দাবিকে শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাটক ‘মার্চেন্ট অফ ভেনিস’-এর একটি সংলাপের সঙ্গে তুলনা করে জানিয়েছে, এটি অনেকটা জীবন্ত মানুষের শরীর থেকে এক টুকরো মাংস কেটে নেওয়ার চেষ্টার মতো।

জাস্টিস বিবেক জৈন এই মামলার শুনানিতে জানান যে, আবেদনকারী নারী আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল এবং তার কোনো সন্তান নেই। ফলে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ এখানে নেই। আদালত পারিবারিক আদালতের আগের রায় বহাল রেখে খোরপোশের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

২০২২ সালের ৪ নভেম্বর এই দম্পতির বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকেই তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। স্বামী নিজেই আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সেই মামলা চলাকালীন স্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের দাবি জানিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কোর্ট প্রথম এই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর নারী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আয়ের বৈষম্য ও আদালতের যুক্তি

মামলার তথ্যানুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নারী বছরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আয় করার কথা আগে স্বীকার করেছিলেন। যদিও হাইকোর্টে তিনি দাবি করেন যে বর্তমানে তার আয় কমে বছরে ১৪ লক্ষ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্বামীর বার্ষিক আয় ৩০ লক্ষ টাকার বেশি।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে:

  • বছরে ১৪ লক্ষ টাকা আয় করলেও মাসে প্রায় ১.২৫ লক্ষ টাকা হাতে থাকে, যা জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট।
  • খোরপোশ তখনই বাধ্যতামূলক হয় যখন স্ত্রী সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল থাকেন অথবা সন্তানের লালন-পালনের খরচ থাকে।
  • যেহেতু এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই এবং নারী নিজেও উচ্চপদস্থ কর্মী, তাই এই দাবি কেবল স্বামীকে হেনস্তা করার শামিল।

রায়ের সম্ভাব্য প্রভাব

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় খোরপোশ সংক্রান্ত আইনি অপব্যবহার রোধে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বিবাদের কারণে খোরপোশ দাবি করা হয়। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, মেইনটেন্যান্স বা খোরপোশ কোনো উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি অসহায়দের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা কবজ।

একঝলকে

  • মামলা: বিবাহবিচ্ছেদ চলাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের দাবি।
  • স্ত্রীর আয়: বার্ষিক ১৪ থেকে ২০ লক্ষ টাকা (মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি)।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: স্বাবলম্বী স্ত্রীর খোরপোশ চাওয়া ‘মাংস উপড়ে নেওয়ার’ মতো নিষ্ঠুর।
  • সিদ্ধান্ত: ফ্যামিলি কোর্টের রায় বহাল, খোরপোশের আবেদন খারিজ।
  • মূল কারণ: কোনো সন্তান নেই এবং স্ত্রী আর্থিকভাবে সচ্ছল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *