শহরের হাইরাইজ আবাসনে জোরদার প্রচার: তৃণমূলের বিশেষ নজর ‘ভোট ক্লাস্টারে’

আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি ভোট নিশ্চিত করতে এবার কলকাতার উচ্চবিত্ত আবাসন ও হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ‘ভোট ক্লাস্টার’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআরের কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় এবার পাড়ার বস্তি বা কলোনি এলাকার পাশাপাশি বহুতল আবাসনগুলোও নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে অবাঙালি প্রধান আবাসনগুলোতে বিজেপির প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ঘাসফুল শিবির এবার মরিয়া।
রাসবিহারী, মানিকতলা ও ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা নিয়মিত হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোতে জনসংযোগ ও বৈঠক করছেন। রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশিস কুমার এবং মানিকতলার প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে ভোটারদের সঙ্গে আড্ডার ছলে প্রচার চালাচ্ছেন। ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিশাল সংখ্যক অবাঙালি ভোটারের কাছে পৌঁছানোই এখন দলের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, ভবানীপুরেও স্থানীয় কাউন্সিলররা আলাদাভাবে অবাঙালি ভোটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।
তৃণমূলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাঙালি অধ্যুষিত বহুতলগুলোতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। হিন্দুত্বের প্রচার মোকাবিলায় প্রার্থীদের যুক্তিপূর্ণ উত্তর ভোটারদের প্রভাবিত করছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। একদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোট ব্যাংক ধরে রাখা, অন্যদিকে আবাসনের উচ্চবিত্ত ও মিশ্র ভাষাভাষীর ভোটারদের মন জয় করা—এই দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এবারের নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে ঘাসফুল শিবির।