শান্তিতে বিদায় নিলেন হরিশ রানা: দেশের প্রথম পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যুর সাক্ষী দিল্লি

দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে চিরশান্তির দেশে পাড়ি দিলেন ৩২ বছর বয়সী হরিশ রানা। বুধবার দক্ষিণ দিল্লির গ্রিন পার্কে পূর্ণ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ভারতে প্রথম ‘প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া’ বা পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যুর অধিকার পেয়েছিলেন তিনি। গত ১১ মার্চ আদালতের নির্দেশে এইআইআইএমএস (AIIMS) হাসপাতালে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তণ মেধাবী ছাত্র।
ছেলের শেষ বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হলেও অটল ছিলেন তাঁর বাবা-মা। হরিশের বাবা অশোক রানা শোকাতুর পরিজনদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর ছেলে এখন যন্ত্রণামুক্ত হয়ে শান্তিতে রয়েছে। মা নির্মলা দেবীও অশ্রুসজল চোখে ছেলেকে বিদায় জানান। মানবিকতার নজির গড়ে পরিবারের পক্ষ থেকে হরিশের চক্ষু দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেষকৃত্যে ব্রহ্ম কুমারী সংস্থার প্রতিনিধি, চিকিৎসাকর্মী এবং প্রতিবেশীরা উপস্থিত হয়ে এই লড়াকু পরিবারকে সমর্থন জানান।
২০১৩ সালে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে শয্যাশায়ী হয়েছিলেন হরিশ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের গাইডলাইন মেনে তাঁর নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করে। এই রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি ভবিষ্যতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার ও অচল রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিশারি হয়ে থাকবে। দীর্ঘ এক দশকের শারীরিক ও মানসিক যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে হরিশ রানার প্রস্থান ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।