শান্তিপুরের শাড়িতে প্রচারের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নকশা করা পোশাক নিয়ে যা বললেন

শান্তিপুরে নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর সমর্থনে জনসভায় যোগ দিয়ে নিজের পোশাক ও স্থানীয় তাঁতশিল্প নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তার পরনে ছিল শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি। মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর পরিহিত শাড়িটি কেবল স্থানীয় অঞ্চলেরই নয়, বরং সেটি তাঁর নিজেরই নকশা করা।
শহর ও জেলার তাঁতশিল্পীদের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিপুরের শাড়ি এবং এখানকার বসাক পরিবারের তাঁতশিল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। উৎসবের মরসুমে, বিশেষ করে পুজোর সময় এই শাড়ির চাহিদা আকাশছোঁয়া থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি বরাবরই নিজের ডিজাইন করা শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। যদিও অনেকে সেই নকশা নকল করেন, কিন্তু তাতে তিনি বিন্দুমাত্র ক্ষুব্ধ নন, বরং বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন বলেই জানান।
ব্যক্তিগত শখের পাশাপাশি এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শারীরিক লড়াই ও অতীতের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। শান্তিপুরের মঞ্চ থেকে তিনি ১৯৯০ সালের একটি মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, সেই সময় শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার পর থেকে তাঁর জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই আঘাতের স্মৃতি ও প্রভাব আজও তাঁর সঙ্গী।
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সেই ঘটনার পর থেকে তিনি খাবারে সামান্য পরিমাণ ঝালও সহ্য করতে পারেন না। রান্নায় এক ফোঁটা ঝাল থাকলে তা তাঁর শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি এর ফলে রাতের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। রাজনৈতিক প্রচারের মাঝে তাঁর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শুনে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ লক্ষ্য করা যায়।
শান্তিপুরের শাড়িকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের জীবনের কঠিন লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত জেলাবাসীর মনের আরও কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের প্রতি তাঁর এই বিশেষ নজর এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের আখ্যান শান্তিপুরের নির্বাচনী আবহকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। মূলত শিল্প ও আবেগ—এই দুই মন্ত্রকেই তিনি হাতিয়ার করেছেন।