শান্তির টেবিলে শিশুদের রক্তমাখা স্কুলব্যাগ! আমেরিকাকে জবাব দিতে অভিনব প্রতিবাদ ইরানের

ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে এক নজিরবিহীন ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইসরায়েলি হামলার জেরে শুরুতে আলোচনায় বসতে আসাম্মতি জানালেও শেষ মুহূর্তে সুর নরম করে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরান প্রতিনিধি দল। তবে তারা খালি হাতে আসেননি; সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন মার্কিন হামলায় নিহত কোমলমতি শিশুদের রক্তমাখা স্মৃতিচিহ্ন।
বিমানে শিশুদের রক্তভেজা স্কুল ব্যাগ ও জুতো
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে অবতরণ করেন। তাদের বিমানে প্রতিটি সিটে সাজানো ছিল হরমুজগান প্রদেশের মিনাভ ‘তাইয়াবে’ স্কুলে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় নিহত ছাত্রীদের রক্তভেজা স্কুল ব্যাগ, জুতো এবং ছবি। মার্কিন হামলার নৃশংসতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই এই অভিনব ও আবেগঘন প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে তেহরান।
ইরান স্পিকার গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই ছবিগুলো শেয়ার করে লিখেছেন, “পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার এই সফরে এই শিশুরাই আমাদের সঙ্গী।”
মিনাভ ট্র্যাজেডি ও আমেরিকার ভুল স্বীকার
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাভ অঞ্চলে রেভল্যুশনারি গার্ডস বেসের কাছে অবস্থিত একটি স্কুলে ভুলবশত টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে এই অঘটন ঘটেছে বলে পরবর্তীতে মার্কিন সেনাবাহিনী স্বীকার করে। এই হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী। এই ঘটনাটি সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল।
আলোচনার টেবিলে কঠিন শর্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শান্তি আলোচনা সফল করতে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে:
- বিদেশে ফ্রিজ করে রাখা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে।
- লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও পরোক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, হরমুজ প্রণালী তথা উপসাগরীয় নৌপথ শীঘ্রই উন্মুক্ত করা হবে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
শান্তি আলোচনার টেবিলে শিশুদের রক্তাক্ত স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আসা ইরানের একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে তারা আলোচনার শুরুতেই আমেরিকাকে নৈতিকভাবে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। একদিকে শান্তির বার্তা, অন্যদিকে হারানো প্রাণের বিচার দাবি— এই দুইয়ের দোলাচলে ইসলামাবাদের এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একঝলকে
- মূল ঘটনা: শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ নিয়ে ইসলামাবাদে ইরান প্রতিনিধি দল।
- প্রতিবাদের কারণ: মিনাভ স্কুলে মার্কিন মিসাইল হামলায় ১৬৫ জনের মৃত্যু।
- ইরানের দাবি: অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি।
- মার্কিন অবস্থান: জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনা ও ট্রাম্পের কড়া বার্তা।
- স্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।