শান্তি ফেরাতে সক্রিয় ভারত ব্রিটিশ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি

শান্তি ফেরাতে সক্রিয় ভারত ব্রিটিশ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গত এক মাস ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘স্ট্রেট অফ হর্মুজ’। এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ব্রিটেনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে ভারত এই আলোচনায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। হর্মুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ভারতের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বিদেশ সচিব ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারত ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বৈঠকে আমেরিকা অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্যান্য দেশগুলিরও নেওয়া উচিত। মূলত সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই ব্রিটেন এই জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহনের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে নিজেদের সরাসরি জড়িয়ে ফেলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই লড়াই ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। যদিও যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন অনুরোধে ইরান বিরোধী হামলার জন্য সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি লন্ডন, তবে পরবর্তীকালে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের ক্ষেত্রে কিছু সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্টারমার প্রশাসন বারবার দাবি করছে যে, ব্রিটেন কোনোভাবেই এই যুদ্ধের অংশীদার হতে চায় না।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই বৈঠকের দিকে। যদি এই আলোচনার মাধ্যমে হর্মুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জ্বালানির এই যোগান অত্যন্ত জরুরি। ফলে দিল্লির এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পেশাদার মহলের ধারণা, ভারতের উপস্থিতি এই আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *