শিউরে ওঠা কাণ্ড! হবু স্বামীর সামনেই তরুণীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে গণধর্ষণ

শিউরে ওঠা কাণ্ড! হবু স্বামীর সামনেই তরুণীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে গণধর্ষণ

শিলচরের শান্ত রাত আচমকাই বদলে গেল বিভীষিকায়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আসামের শিলচর বাইপাসে ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক ঘটনা বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গভীর রাতে হবু স্বামীর সঙ্গে লং ড্রাইভে বেরিয়ে এক তরুণী যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা ছিল কল্পনাতীত। অভিযোগ উঠেছে, একদল মত্ত যুবক পথ আটকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করে, আর সেই নারকীয় ঘটনার সাক্ষী হতে হয় তাঁর অসহায় হবু স্বামীকে।

রাতের নির্জনতায় অতর্কিত হামলা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা তরুণী তাঁর হবু স্বামীর সঙ্গে চেংকুড়ি রোড এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে যুবকটি গাড়ি থামিয়ে সামান্য সময়ের জন্য বাইরে বেরোলে বিপদ ঘনিয়ে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি অন্য গাড়িতে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। তরুণীর হবু স্বামীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে, তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক এক করে যুবকরা তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

লুঠপাট ও পুলিশের পদক্ষেপ

পাশবিক নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা ওই যুগলের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় বিপর্যস্ত হয়েও ওই রাতেই যুগল শিলচর সদর থানায় পৌঁছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটির হদিস পেতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

এই ঘটনার পর থেকে শিলচর বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের বেলা শহরের প্রান্তিক এলাকার এই নির্জন রাস্তাগুলোতে পুলিশের টহলদারি প্রায় থাকে না বললেই চলে। নিরাপত্তার এই খামতির সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের কাছে বাইপাস রোডে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বর্তমান পরিস্থিতি

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই বাকি অপরাধীদের জালে তোলা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ছিনতাই হওয়া টাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *