শীতলাষ্টমী ২০২৬: বসোড়া উৎসবে বাসি খাবার খাওয়ার নেপথ্যে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক কারণ

শীতলাষ্টমী ২০২৬: বসোড়া উৎসবে বাসি খাবার খাওয়ার নেপথ্যে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক কারণ

চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে দেবী শীতলার আরাধনা করা হয়, যা শীতলা সপ্তমী ও ‘বসোড়া’ নামে পরিচিত। এই বছর ১০ ও ১১ মার্চ এই উৎসব পালিত হবে। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, পুজোর আগের রাতে তৈরি করা বাসি ও ঠান্ডা খাবার দেবীকে নিবেদন করে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেবী শীতলা মা পার্বতীরই এক রূপ এবং চৈত্র মাসের এই সন্ধিক্ষণে তাঁর পূজা করলে স্মল পক্সের মতো মরশুমি রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। উৎসবের আগের রাতে মহিলারা স্নান সেরে মিষ্টি ভাজিয়া, পুরি, ভাত ও হালুয়া প্রস্তুত করেন। পরদিন সকালে সেই ঠান্ডা খাবার বা ‘বসোড়া’ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।

এই প্রথার পেছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক ও আয়ুর্বেদিক কারণ। শীত ও গ্রীষ্মের এই মিলনকালে শরীরে রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ে। আয়ুর্বেদ মতে, এই সময়ে গরম খাবারের চেয়ে ঠান্ডা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। মূলত আসন্ন গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরকে সুস্থ রাখতে ঠান্ডা খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই প্রাচীন রীতির প্রচলন হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *