শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যুতেও দমে যাবে না যোদ্ধারা, হুঙ্কার দিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মুজতবা খামেনেই

তেহরান: ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মুজতবা খামেনেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, একের পর এক শীর্ষ আধিকারিকদের খুনের পরেও দেশের সামরিক শক্তি বা যোদ্ধাদের মনোবলে কোনো চির ধরবে না। খামেনেই দাবি করেছেন, এই আত্মবলিদান যোদ্ধাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারবে না, বরং তাঁরা শত্রুর উপযুক্ত মোকাবিলা করবে।
সোমবার আইআরজিসি-র প্রবীণ আধিকারিক মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমির মৃত্যুর পর এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে। খামেনেই তাঁর লিখিত বার্তায় জানান, খাদেমি কয়েক দশক ধরে গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশের সেবা করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সংহতি এতটাই শক্তিশালী যে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই সংকল্পকে দুর্বল করা আসাম্ভব। জিহাদি আদর্শের প্রতি ইরান অবিচল থাকবে বলেও তিনি জোর দিয়ে জানান।
তেহরান এবং ইসরায়েল উভয় পক্ষই মজিদ খাদেমির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের মৃত্যুর পেছনে দায়বদ্ধ থাকায় খাদেমিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনার দাবি, তারা কুদস ফোর্সের স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরীকেও খতম করেছে। যদিও বাঘেরীর বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে ইসরায়েল ইরানের একাধিক প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তাদের টার্গেট করেছে। তা সত্ত্বেও ইরান পিছু হঠতে নারাজ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনার জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও ইরানের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
আমেরিকার প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি ইরান প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি আলোচনার পথে না আসে তবে আমেরিকা এক রাতের মধ্যেই তাদের ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামরিক কমান্ডারদের মৃত্যু ইরানের প্রতিরোধের মানসিকতাকে আরও উসকে দিয়েছে।