শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রার্থী পদ বাতিলের দাবিতে সিইও-কে চিঠি

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রার্থী পদ বাতিলের দাবিতে সিইও-কে চিঠি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপের মধ্যেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি দিয়েছে শাসক দল। গত ১০ দিনের মধ্যে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এটি তৃণমূলের তৃতীয় অভিযোগ, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো এই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য ক্রমাগত উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও বিজেপি প্রার্থীর এহেন আচরণ সেই অধিকারকে খর্ব করছে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।

শাসক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রবীণ সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে শুভেন্দুর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, তিনি তাঁর জনসভাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘পেটাবে’, ‘গ্যাস ফাটাবে’ বা ‘সোজা করে দেবে’—এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের শাসাচ্ছেন। এটি সরাসরি নির্বাচনী বিধির বিরোধী এবং এর মাধ্যমে ভোটারদের নির্দিষ্টভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

ভোটারদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও শুভেন্দু অধিকারী লক্ষ্য করছেন বলে চিঠিতে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে দুই পুলিশ আধিকারিক রূপেশ কুমার ও অজয় নন্দকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে শাসক দল। তৃণমূলের মতে, ভোট পরিচালনার দায়িত্ব থাকা সরকারি আধিকারিকদের এভাবে জনসমক্ষে হুমকি দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনকে চাপে রাখা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা।

এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থী পদ খারিজ বা তাঁকে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার জোরালো দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের উচিত এই ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যথায় নির্বাচনী পরিবেশ কলুষিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঘাসফুল শিবির।

বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই ক্রমাগত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের এই চিঠির প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *