শেখ মুজিবুর রহমানের নাম কি মুছে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে? তারেক রহমান সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, বিএনপি সরকারও সেই পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীসহ আওয়ামী লীগ আমলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিবস রাষ্ট্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে পালিত হওয়া ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসসহ মোট আটটি দিবস বাতিল করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দিবসগুলো বাতিল করার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, বর্তমান সরকারও সেই নীতিতেই অটল থাকল।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, বিশেষ দিনগুলোকে ক, খ এবং গ—এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণিতে রাখা হয়েছে ১৭টি জাতীয় পর্যায়ের দিবস। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ক-শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের স্মৃতিতে ১৬ জুলাই পালিত হবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ক ও খ শ্রেণির অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যাবে। তবে গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস পালনের জন্য উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ পরিবারের প্রভাব পুরোপুরি কমিয়ে নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বর্তমান প্রশাসন।