‘শেয়ালের মতো শিকার করল ওরা..!’ আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে কৃষকের করুণ আর্তনাদ

মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় রামেশ্বর গাওয়ানে নামক এক কৃষক নিজের জমিতে বিষপান ও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার শেষ পোস্টটি বর্তমানে গোটা রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে তিনি তার স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে গেছেন।
সম্পত্তির লালসা ও বর্বরোচিত নির্যাতন
রামেশ্বরের দাবি অনুযায়ী, তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর আত্মীয়রা শুধুমাত্র তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দখল নিতে তাকে গত কয়েক বছর ধরে ‘শেয়ালের মতো’ তাড়া করে বেরিয়েছে। তার অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো:
- স্বর্ণালংকার চুরি: রামেশ্বরের দাবি, তার ঘরের আসল সোনার গয়না সরিয়ে সেখানে নকল গয়না রেখে দেওয়া হয়েছিল যাতে তাকে চুরির অপবাদে ফাঁসানো যায়।
- খাবারে বিষপ্রয়োগ: তিনি অভিযোগ করেন, তার খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও মরিচ মেশানো হতো এবং মাঝেমধ্যে এমন কিছু ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হতো যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটত।
- বৃদ্ধা মায়ের ওপর অত্যাচার: রামেশ্বরের বৃদ্ধা মাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। তাকে পচা বা বাসি খাবার খেতে দেওয়া হতো বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেইল
রামেশ্বর অভিযোগ করেছেন যে, তার ফোন হ্যাক করা হয়েছিল এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে প্ররোচিত করা হতো। তিনি রাগের মাথায় কিছু বললে তা রেকর্ড করে পরবর্তীতে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ব্যবহার করা হতো। এই গভীর ষড়যন্ত্রে কিছু অসাধু ডাক্তার, আইনজীবী এবং তার তথাকথিত বন্ধুরাও জড়িত ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রভাব ও পুলিশের ভূমিকা
রামেশ্বরের ফেসবুক পোস্টটি দেখার পরপরই তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। বিড জেলার পারলী তালুক পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। রামেশ্বরের পোস্টে উল্লেখ করা নামগুলোর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি করেছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: পারলী তালুক, বিড জেলা, মহারাষ্ট্র।
- ভুক্তভোগী: রামেশ্বর গাওয়ানে (পেশায় কৃষক)।
- অভিযোগ: স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ।
- প্রমাণের মাধ্যম: মৃত্যুর আগে দেওয়া দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট।
- বর্তমান অবস্থা: পুলিশি তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু।