শ্রীক্ষেত্রে রহস্য: জগন্নাথ মন্দিরের নিচে প্রাচীন সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসাবশেষের হদিস

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। আইআইটি গান্ধীনগরের পরিচালিত ‘গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রেডার’ (জিপিআর) সমীক্ষায় মন্দিরের তলদেশে সুড়ঙ্গসদৃশ কাঠামো ও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের ইঙ্গিত মিলেছে। ওড়িশা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে হেরিটেজ করিডর প্রকল্পের কাজ চলাকালীন এই ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোটি শনাক্ত করা হয়।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মন্দিরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার চওড়া একটি বিশাল কাঠামোর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি দ্বাদশ শতাব্দীরও আগের কোনো গোপন পথ বা উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা হতে পারে। মাটির নিচে প্রায় ৫ মিটার গভীর পর্যন্ত এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে খননকার্যের সময় গঙ্গা রাজবংশের একটি সিংহের ভাস্কর্য ও বিভিন্ন প্রাচীন প্রত্নবস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমান সমীক্ষা অনুযায়ী, এমার মঠ ও নৃসিংহ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এমন ৪৩টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য শনাক্ত করা হয়েছে। শ্রীক্ষেত্রের মাটির নিচে কোনো প্রাচীন শহর বা ঐতিহাসিক বসতি চাপা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।