সংগঠন শিকেয়, সমীক্ষা রিপোর্টে ভর করে বাংলা দখলের স্বপ্নে বুঁদ বিজেপি

সংগঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে। বুথস্তরেও বেহাল দশা। গোষ্ঠীকোন্দলে দীর্ণ পার্টি। বর্তমান বিধায়কদের একাংশের ‘পারফরমেন্স’ নিয়েও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। এই পর্বে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে অসন্তোষের আগুন জ্বলছে জনমানসে। ‘বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীতে ভরে রয়েছে বাংলার ভোটার তালিকা, এসআইআরে তার শুদ্ধকরণ হবে’—গত কয়েকমাস ধরে পদ্মপার্টির নেতাদের এহেন প্রচারও চুপসে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটেও ব্রাত্য বাংলা। এরকম একটা অবস্থায় ভোটযুদ্ধের উপকরণ বলতে ভিনরাজ্য থেকে ‘ভাড়া’ করে আনা সমীক্ষক সংস্থার ‘রিপোর্ট’। ভোটের আগাম ফলাফল নিয়ে তিনটি সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট মোটামুটি একই, ‘বাংলায় ১৩৫-১৫০টি আসন পেতে পারে বিজেপি।’ এই সমস্ত রিপোর্টে ভর করে এখন বাংলা দখলের স্বপ্নে ‘বুঁদ’ গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে, এর আগে ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ভাড়া করা সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে উদ্বাহু নৃত্য শুরু হয়েছিল। ‘আব কী বার, ২০০ পারে’র খোয়াব চুরমার হয়েছিল। সেটা কি সবাই ভুলে গিয়েছেন?
এবার যে তিনটি সংস্থা বিজেপির হয়ে সম্ভাব্য ফলাফলের সমীক্ষা চালিয়েছে, তার মধ্যে একটির বাংলায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে পদ্মপার্টির হয়ে সমীক্ষা চালিয়ে তারা জানিয়েছিল, ‘বাংলা দখল শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সমাজমাধ্যমে জনমত তৈরির কাজে নেমে পড়েছিল বিজেপির আইটি সেল। কিন্তু ভোটবাক্সে সেই রিপোর্টের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। দলগতভাবে শুধু বিজেপি নয়, তাদের বিধায়কদের অনেকেই বিভিন্ন পিআর এজেন্সি ‘ভাড়া’ করে ভোটের আগে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়তে মরিয়া। বিজেপি সূত্রে খবর, তাদের এক মহিলা বিধায়ক এই বিষয়ে অগ্রগণ্যা।
বিজেপি সূত্রের খবর, এসআইআর হয়রানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে যে ভাবে সওয়াল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। পাশাপাশি রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ঘোষণা করে ভোটের লড়াইয়ে তৃণমূলকে খানিক এগিয়ে দিয়েছেন মমতা। সেটাও মেনে নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। লাগাতার পিছিয়ে থাকার হতাশা থেকে মুক্তি পেতে এবার তাই সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্টকেই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যস্তরে দলের প্রথমসারির এক নেতার কথায়, ওই সমীক্ষক সংস্থাগুলি গত ৫-৬ মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ ঘুরে, মানুষের সঙ্গে কথা বলে গ্রাউন্ড রিপোর্ট তৈরি করেছে। তাদের রিপোর্টের ইঙ্গিত, এ রাজ্যে পালাবদল হচ্ছে। তবে আমরা ১৫২ থেকে ১৮০টি আসনের টার্গেট নিয়ে এগচ্ছি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশের আগে থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে নিত্যদিন পরিবর্তন হচ্ছে। সেই নিরিখে এই রিপোর্ট পদ্মপার্টির অনুকূলে থাকে কি না, এখন সেটাই দেখার।