সজনে ভেবে ভুল কিছু কিনছেন না তো? আসল সজনে চেনার অব্যর্থ উপায় জেনে নিন!

সজনে ভেবে ভুল কিছু কিনছেন না তো? আসল সজনে চেনার অব্যর্থ উপায় জেনে নিন!

বসন্তের এই মরশুমে বাঙালির পাতের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি হলো সজনে ডাঁটা। তবে বাজারে সজনে কিনতে গিয়ে অনেকেই অজান্তে বাড়ি নিয়ে আসছেন নাজনা। সজনে এবং নাজনা একই গোত্রের উদ্ভিদ হলেও এদের বৈশিষ্ট্য, স্বাদ এবং গুণগত মান সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেনাকাটার সময় সাধারণ ক্রেতারা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য এই দুইয়ের মূল পার্থক্যগুলো চিনে নেওয়া জরুরি।

গাছ ও গঠনের বৈচিত্র্য

সজনে গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এর ডালপালা ওপরের দিকে ছড়ানো থাকে। এর কান্ড বেশ শক্ত ও কাষ্ঠল। অন্যদিকে, নাজনা গাছ উচ্চতায় মাত্র ৪ থেকে ৬ মিটার এবং অনেকটা ঝোপঝাড়ের মতো দেখায়। নাজনা গাছের কান্ড তুলনামূলক নরম হয় এবং এটি সজনের চেয়ে অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ফুল দেখে চেনার উপায়

সজনে গাছে বছরে একবারই ফুল আসে, সাধারণত বসন্তের শুরুতে। সজনের ফুল ধবধবে সাদা বা অফ-হোয়াইট রঙের হয় এবং এতে কোনো দাগ থাকে না। বিপরীতে, নাজনা বছরে অন্তত দু’বার ফলন দেয়। এর ফুলের পাপড়িতে বিশেষ এক ধরণের লালচে দাগ দেখা যায়, যা দেখে খুব সহজেই একে সজনে থেকে আলাদা করা সম্ভব।

ডাঁটার আকার ও স্বাদের পার্থক্য

  • সজনে ডাঁটা: এগুলো লম্বায় প্রায় এক ফুটের বেশি এবং বেশ সরু হয়। এর গায়ের রং উজ্জ্বল সবুজ এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। এতে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকে যা হজমে সাহায্য করে।
  • নাজনা ডাঁটা: সজনের তুলনায় নাজনা ডাঁটা আকারে খাটো এবং কিছুটা মোটা বা পুরু হয়। এর রং সামান্য ধূসর-সবুজ এবং এটি গড়নে কিছুটা বাঁকা হতে পারে। স্বাদের ক্ষেত্রে নাজনা সামান্য তিতকুটে হতে পারে এবং এর বাইরের চামড়া সজনের চেয়ে শক্ত হয়।

উৎপাদন ও বাণিজ্যিক প্রভাব

সজনে গাছ রোপণ করার পর ফল দিতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নাজনা গাছ বাণিজ্যিক চাষের জন্য বেশি জনপ্রিয়, কারণ মাত্র ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই এতে ফলন আসা শুরু হয়। দ্রুত ফলন এবং বছরে দু’বার ফল দেওয়ার ক্ষমতার কারণে বাজারে এখন নাজনার সরবরাহ বেড়েছে।

স্বাস্থ্যগুণ ও উপকারিতা

স্বাদ বা আকারে পার্থক্য থাকলেও পুষ্টিগুণে সজনে এবং নাজনা উভয়ই অনন্য। এদের ‘সুপারফুড’ বলা হয় কারণ দুটিতেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। বসন্তকালে পক্স বা অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধে এই সবজি বিশেষ কার্যকর। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত সজনে বা নাজনা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

একঝলকে

  • সজনে ফুল ধবধবে সাদা, নাজনার ফুলে লালচে দাগ থাকে।
  • সজনে ডাঁটা সরু ও লম্বা, নাজনা খাটো ও পুরু।
  • সজনে বছরে একবার ফলে, নাজনা ফলে দু’বার।
  • সজনের স্বাদ বেশি মিষ্টি ও আঁশযুক্ত, নাজনা কিছুটা তিতকুটে হতে পারে।
  • সজনে গাছ ১০-১২ মিটার লম্বা হয়, নাজনা ৪-৬ মিটারের ঝোপালো গাছ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *