সতীপীঠ অট্টহাসে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় রণক্ষেত্র কেতুগ্রাম পুলিশের নাকের ডগায় দেবীর গয়না লুঠ

পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠ অট্টহাসে মঙ্গলবার গভীর রাতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। সতীপীঠের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দেবীর বহুমূল্য সোনা ও রুপোর অলঙ্কারসহ প্রণামী বাক্সের সমস্ত নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। পুলিশ ক্যাম্পের ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত এই মন্দিরে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটে থেকে তিনটের মধ্যে এই চুরির অপারেশন চালায় দুষ্কৃতীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পরিচয় গোপন রাখতে মন্দিরের সামনের ক্যামেরাগুলোতে কাদা লেপে দিয়েছিল তারা। এরপর মন্দিরের বারান্দার গ্রিল এবং গর্ভগৃহের একাধিক তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মন্দিরের পুজারি রামজী মহারাজ জানান, দুষ্কৃতীরা দেবীর মাথার মুকুট, গলার হার, পায়ের তোড়াসহ সমস্ত মূল্যবান গহনা খুলে নিয়েছে। এমনকি প্রণামী বাক্স ভেঙে টাকা লুঠ করার পর সেটি পাশের ঝোপে ফেলে দিয়ে যায়।
কেতুগ্রামের এই অট্টহাস সতীপীঠ বাংলার ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম। পুরাণ মতে এখানে দেবী সতীর অধর বা নীচের ওষ্ঠ পতিত হয়েছিল। ঈশানী নদীর পাড়ে জঙ্গলঘেরা এই নির্জন তীর্থক্ষেত্রে দেবী ‘অধরেশ্বরী’ রূপে পূজিতা হন। এমন এক জাগ্রত মন্দিরে চুরির খবর বুধবার সকালে জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় ডালা বিক্রেতা সার্থক রায় অভিযোগ করেন, কাছেই পুলিশ ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও এলাকায় দুষ্কৃতীদের উপদ্রব কমছে না। এর আগেও মেলা চলাকালীন গাড়ি ভাঙচুর করে নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সকালে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেপ্তার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা।