সতীর্থদের জন্য মাঠে জলের বোতল হাতে অর্জুন তেণ্ডুলকর, শচীনপুত্রের নম্রতায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া

কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন তেণ্ডুলকরের পুত্র হিসেবে প্রত্যাশার বিশাল চাপ তাঁর সঙ্গী। তবে সেই আকাশছোঁয়া খ্যাতির আলোয় গা না ভাসিয়ে ২২ গজে নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অর্জুন তেণ্ডুলকর। সম্প্রতি লখনউ সুপার জায়ান্টস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও মাঠের বাইরে অর্জুনের এক বিশেষ ভূমিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কেড়েছে। সতীর্থদের জন্য ‘ওয়াটার বয়’ হিসেবে মাঠে পানীয় নিয়ে ছুটে যাওয়ার দৃশ্যে মুগ্ধ হয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
লখনউয়ের জয়ে সতীর্থদের অবদানের পাশাপাশি নেটপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে অর্জুনের এই দম্ভহীন মানসিকতা। নেটিজেনরা বলছেন, চাইলে বাবার পরিচয়ে বিলাসবহুল জীবন কাটাতে পারতেন তিনি, কিন্তু ক্রিকেটীয় শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। মাঠে নামার সুযোগ না পেয়েও কোনো রকম আক্ষেপ বা অহংকার ছাড়াই দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন অর্জুন। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের এমন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।
সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংও এর আগে অর্জুনের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেছিলেন। তাঁর মতে, অর্জুন অত্যন্ত ভদ্র এবং দ্রুত শেখার মানসিকতাসম্পন্ন। সেই কথারই প্রতিফলন দেখা গেল রবিবারের মাঠে। নিজের পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিতে নেটেও নিয়মিত ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনি। মাঠের বাইরে দলের জন্য এমন নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করা প্রমাণ করে যে, সুযোগের অপেক্ষায় থেকে তিনি ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বাবার সাফল্যের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পরিচয় গড়ার এই কঠিন পথই অর্জুনকে একদিন বড় সাফল্য এনে দেবে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করা এবং প্রতিনিয়ত শেখার এই প্রবল ইচ্ছাই তাঁকে প্রকৃত টিমম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্রিকেট বিশ্বে তারকা-সন্তানদের নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন অর্জুনের এই নিরহংকার ভঙ্গি আগামীর জন্য এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।