সফটওয়্যার চাকরির আড়ালে নরকযন্ত্রণা! তরুণীদের ধর্ষণ ও ধর্মান্তকরণে অভিযুক্ত ৬ আইটি কর্তা, তদন্তে নামল SIT

মহারাষ্ট্রের নাসিক আইটি করিডোরে এক ভয়াবহ অপরাধের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। আইটি সেক্টরের মতো একটি সম্মানজনক পেশায় যুক্ত থাকা তরুণীদের দীর্ঘ দুই-তিন বছর ধরে নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌন হেনস্তা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো গুরুতর অভিযোগে এক নামী আইটি প্রতিষ্ঠানের ৬ জন টিম লিডারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযুক্ত
নাসিকের একটি নামী আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন এবং তৌসিফ আত্তার সহ মোট ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে নিজেদের পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
যেভাবে চলত নির্যাতন
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের মূলত লক্ষ্যবস্তু করা হতো। অভিযুক্তরা কেবল শারীরিক হেনস্তাই নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে মানসিকভাবেও কর্মীদের বিপর্যস্ত করত।
- যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণ: অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্তদের মধ্যে এক বিবাহিত ব্যক্তি প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এছাড়াও অফিসে অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং পোশাক নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
- ধর্মীয় অবমাননা: ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- ধর্মান্তরকরণের চাপ: শুধু নারী কর্মীরাই নন, এক পুরুষ কর্মীও অভিযোগ করেছেন যে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করতেন এবং ধর্মান্তরকরণের জন্য প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও আইনি পদক্ষেপ
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে যাওয়ার আগে অফিসের অভ্যন্তরীণ ‘পশ’ (POSH) কমিটির কাছে এবং এইচআর (HR) বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের পাশে না দাঁড়িয়ে সংস্থাটি উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছিল বলে জানা গেছে। এই গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রধানের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
তদন্তে সিট (SIT)
এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখতে সিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই এখনো মুখ খোলেননি। আরও কতজন এই লালসার শিকার হয়েছেন, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যদি আরও কেউ ভুক্তভোগী থাকেন তবে তারা যেন নির্ভয়ে এগিয়ে আসেন।
একঝলকে
- গ্রেফতার: নাসিকের আইটি প্রতিষ্ঠানের ৬ জন টিম লিডার গ্রেফতার।
- অভিযোগ: ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ।
- তদন্ত: রাজ্য সরকার কর্তৃক বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন।
- ব্যর্থতা: অভিযোগ জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এইচআর প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা।
- টার্গেট: ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতো।
- সময়কাল: গত ২-৩ বছর ধরে অফিসের ভেতরেই চলছিল এই অনাচার।