“সবাইকে ঢুকতে না দিলে সমাজ ভাগ হয়ে যাবে, হিন্দুধর্মের ক্ষতি হবে!” মন্দির প্রবেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

“সবাইকে ঢুকতে না দিলে সমাজ ভাগ হয়ে যাবে, হিন্দুধর্মের ক্ষতি হবে!” মন্দির প্রবেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের মন্দির ও মঠগুলোতে ভক্তদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মন্দির ও মঠে যাওয়ার অধিকার থাকা উচিত। ধর্মের দোহাই দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে আলাদা রাখা বা কাউকে মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হিন্দু ধর্মের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য ইতিবাচক নয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এমন এক সময়ে এল যখন কেরালার সবরিমালা মন্দিরে নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের প্রবেশাধিকারসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে লিঙ্গ বৈষম্যের মামলা নিয়ে শুনানি চলছে।

ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক প্রভাব

বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন শুনানির সময় এক গভীর আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যদি প্রথা বা আচারের নামে কেবল নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য মন্দিরের দ্বার খোলা রাখা হয় এবং অন্যদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তা হিন্দু ধর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আদালতের মতে:

  • এর ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • এটি কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।
  • বাস্তবতা হলো, ধর্মপ্রাণ মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখা সম্ভব নয়।

বিচারপতি অরবিন্দ কুমারও এই মতের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন যে, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে ফাটল ধরাতে পারে।

সাম্প্রদায়িক সীমাবদ্ধতা বনাম জনস্বার্থ

শুনানি চলাকালীন নায়ের সার্ভিস সোসাইটি এবং আইয়াপ্পা সেবা সমাজমের মতো সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনজীবী সি.এস. বৈদ্যনাথন যুক্তি দেন যে, নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মন্দির কেবল তাদের নিজস্ব সদস্যদের জন্যই উপাসনার অনুমতি দিতে পারে। তিনি পূর্বের কিছু আইনি রায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, কিছু ধর্মীয় আচার কেবল নির্দিষ্ট উপ-সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত থাকতে পারে।

এর জবাবে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে:

  • ব্যক্তিগত বা ছোট মন্দিরের কথা আলাদা হতে পারে, কিন্তু सार्वजनिक বা সর্বজনীন মন্দিরে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
  • সংবিধানের ২৫(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র চাইলে এ ধরনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
  • যদি কোনো মন্দির কেবলমাত্র একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তারা সরকার বা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কোনো অনুদান বা তহবিল দাবি করতে পারে না।

আইনি প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ শুনানি

আদালত উল্লেখ করেছে যে, সাংবিধানিক বিধানের ওপর ভিত্তি করে এই বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাদ্রাজ মন্দির প্রবেশ কর্তৃপক্ষ আইনের প্রসঙ্গ টেনে জানানো হয় যে, কিছু বিশেষ আচার সংরক্ষিত থাকলেও মন্দির সাধারণ সব হিন্দুদের জন্য খোলা থাকা বাঞ্ছনীয়। সবরিমালা মামলা এবং এর সঙ্গে জড়িত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন নিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

একঝলকে

  • সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।
  • মূল উদ্বেগ: নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আলাদা রাখলে হিন্দু ধর্ম ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট: সংবিধানের ২৫(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।
  • লক্ষ্য: সর্বজনীন মন্দিরে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: আগামী সপ্তাহে সাংবিধানিক বেঞ্চে পুনরায় শুনানি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *