সরাসরি আমেরিকায় আঘাত হানবে কিমের নতুন মিসাইল, চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

সরাসরি আমেরিকায় আঘাত হানবে কিমের নতুন মিসাইল, চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান ও আমেরিকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ বাড়িয়ে নতুন ও শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই হাই-থ্রাস্ট সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) এখন আরও বেশি শক্তিশালী। কিম জং উন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দাবি করেন যে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইল এখন সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সলিড ফুয়েল ইঞ্জিনের মিসাইল তরল জ্বালানির তুলনায় অনেক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়, যা শত্রুপক্ষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন। নয়া এই ইঞ্জিনে উন্নত কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রায় ২৫০০ কিলো-নিউটন থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। কিমের এই ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার জন্য বড় বিপদ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন ইরান সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক আস্ফালন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সেখানে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। তবে ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে আমেরিকা ‘থাড’ ও প্যাট্রিয়টের মতো শক্তিশালী ডিফেন্স সিস্টেম সরিয়ে নেওয়ায় সিওলের নিরাপত্তা এখন অনেকটাই নড়বড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এই তৎপরতার পেছনে বেজিংয়ের প্রচ্ছন্ন মদত থাকতে পারে। যদিও উত্তর কোরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের অনুমতি দেয় না, তবে আমেরিকার ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে চাপে রাখাই কিমের মূল লক্ষ্য।

নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক করতে কিম জং উন একটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই নতুন মিসাইল ইঞ্জিনের পরীক্ষা সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রারই একটি অংশ। কিমের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে নিরন্তর গবেষণা চলবে। পিয়ংইয়ংয়ের এই আগ্রাসী মনোভাব এশিয়াসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *