সস্তায় ইরানি তেল পাওয়ার বড় সুযোগ ভারতের সামনে

ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে আমেরিকা। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এক বিশাল আর্থিক স্বস্তির দুয়ার খুলে যেতে পারে।
কেন এই পরিবর্তন
বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার কারণে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কৌশল নিতে চাইছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে চীনকে চাপে ফেলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো এশীয় দেশগুলোর কাছে তেলের জোগান নিশ্চিত করাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য।
ভারতের জন্য লাভ কতটুকু
- পুরানো অভিজ্ঞতা: ২০১৮ সালের আগে ভারতের মোট তেল আমদানির ১১.৫ শতাংশ আসত ইরান থেকে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলো ইরানি তেল শোধনে অত্যন্ত দক্ষ।
- পরিবহন সুবিধা: বর্তমানে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে সরাসরি ও সস্তায় তেল পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।
- অর্থনৈতিক স্বস্তি: ভারত তার চাহিদার ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করে। রাশিয়ার পর ইরান থেকে সস্তায় তেল পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
চ্যালেঞ্জ যেখানে
আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও শিপিং বিমা এবং পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে জটিলতা থেকে যেতে পারে। এছাড়া মার্কিন পার্লামেন্টে ইরান বিরোধী কড়া বিল পাস হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কতটা ছাড় দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুযোগ এলে ভারত রাশিয়ার মতোই দ্রুততার সঙ্গে এই ‘সস্তা তেলের’ বাজার ধরতে সক্রিয় হবে।