সাংসদদের প্রবল হট্টগোল আর বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই টিকে গেলেন ওম বিড়লা

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব বুধবার ধ্বনি ভোটে খারিজ হয়ে গেল। তবে ভোটাভুটির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি তথাকথিত ‘অসংসদীয়’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কক্ষ, যার জেরে প্রতিবাদে সংসদ ভবন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অমিত শাহ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হন এবং ওয়েলে নেমে আসেন বিরোধী সাংসদরা। পরিস্থিতির চাপে পড়ে অমিত শাহ জানান, তাঁর কোনো শব্দ আপত্তিকর মনে হলে তা সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
আলোচনা চলাকালীন অমিত শাহ রাহুল গান্ধীকে ‘অযোগ্য বিরোধী দলনেতা’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন এবং জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে বলেন, সংসদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষও স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মনে করিয়ে দেন কীভাবে অতীতে শতাধিক বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করে বিল পাস করানো হয়েছিল।
বিরোধীদের দাবি ছিল, ভোটাভুটির আগে অমিত শাহকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু স্পিকারের আসনে থাকা জগদম্বিকা পাল সেই দাবি আমল না দিয়ে ভোটাভুটি শুরু করলে বিরোধীরা কক্ষ ত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত শাসক শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা এই প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।