সাগরদিঘিতে বাম-আইএসএফ-এসডিপিআই মহাজোট

সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিল। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এসডিপিআই-তে যোগ দেওয়া মশিউর রহমানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মশিউর এবার আইএসএফ-এর ‘খাম’ প্রতীকে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই আসনে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস এবং কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী। বিজেপির তরফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাপস চক্রবর্তী।
এই বিশেষ রাজনৈতিক জোটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষত, আদর্শগতভাবে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এসডিপিআই-এর প্রার্থীকে ধর্মনিরপেক্ষ বামফ্রন্ট কেন সমর্থন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জোটের অন্দরেও অস্বস্তি স্পষ্ট, কারণ ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি-র মতো শরিক দলগুলি অনেক আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পথে হাঁটছে। সাগরদিঘিতে সিপিএম প্রার্থী না দিলেও, মৌলবাদী অভিযোগ বিদ্ধ একটি দলের সঙ্গে তাদের এই সমঝোতা রাজনৈতিক মহলে ‘জোটের নামে জটলা’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এখন চর্তুমুখী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি। একদিকে তৃণমূলের ঘর গুছিয়ে রাখা এবং অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপির নিজস্ব শক্তিবৃদ্ধির চেষ্টার মাঝে বাম-আইএসএফ-এসডিপিআই রসায়ন কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মশিউরের মতো দলত্যাগী নেতার ওপর ভর করে বামেরা কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারবে, সেটাই এখন দেখার। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, সাগরদিঘির এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।