সাতটি কেন্দ্রের প্রচারে মমতা, নজরে বালু

সাতটি কেন্দ্রের প্রচারে মমতা, নজরে বালু

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের নির্বাচনী রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একযোগে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আজ ম্যারাথন জনসভা করবেন তিনি। এই প্রচারসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণ বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই হাবড়া কেন্দ্রটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল কৌতূহল ছিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দল এই কেন্দ্রে ফের বিদায়ী বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেই (বালু) নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা এবং বিগত কয়েক মাসের ঘটনাবহুল রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর জ্যোতিপ্রিয়র ওপর দলের এই পুনঃআস্থা প্রদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

হাবড়ার এদিনের জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। বিদায়ী মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো জ্যোতিপ্রিয়র হাত ধরেই এই কেন্দ্রে তৃণমূল তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। দলের অন্দরের সমীকরণ এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার ক্ষেত্রে এই সভা এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলবারের এই সফর মূলত তৃণমূলের শক্তি সংহতির বার্তা দেবে। দক্ষিণবঙ্গের যে সাতটি কেন্দ্রে তিনি আজ সভা করবেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় ইস্যুর পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখেই প্রচার চালাবে শাসক দল। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে নেত্রীর উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পুনরায় তাঁর পুরনো ও বিশ্বস্ত সৈনিকদের ওপরই ভরসা রাখছেন, হাবড়ার প্রার্থী নির্বাচন তার অন্যতম বড় প্রমাণ। বিরোধী শিবিরের আক্রমণের মোকাবিলা করে কীভাবে তৃণমূল এই কেন্দ্রগুলি নিজেদের দখলে রাখে, তার প্রাথমিক রূপরেখা আজ এই সভাগুলো থেকেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সামগ্রিকভাবে, আজকের এই হাইভোল্টেজ প্রচার অভিযান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা নেবে। হাবড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের এই সাতটি আসনের লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রীর জনসভা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আগামীর ফলাফলই বলবে। পেশাদারিত্ব ও কৌশলী প্রচারের মিশেলে আজকের এই দিনটি ঘাসফুল শিবিরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *