সাত বছর পর ময়ূরেশ্বরে সক্রিয় দুধকুমার মণ্ডল, ভোট আসতেই সরষে ঝেড়ে প্রচারের ধরণে তৃণমূলের কটাক্ষ

দীর্ঘ সাত বছর রাজনৈতিক নেপথ্যে থাকার পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন দুধকুমার মণ্ডল। জেলা বিজেপির প্রাক্তন এই সভাপতি নিজের এলাকায় জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। প্রচারের ময়দানে নিজেকে ‘জনতার প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে হাত মেলাচ্ছেন তিনি। কখনও চাষির বাড়িতে সরষে ঝাড়ছেন, আবার কখনও ভোটারের ঘরের কাজে সাহায্য করছেন। তবে তাঁর এই জনসংযোগের ধরণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই বিজেপি প্রার্থী শুধুমাত্র ভোট এলেই মানুষের পাশে থাকার নাটক করেন। ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রমোদ রায় ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “ভোট এলেই এই প্রার্থীকে দেখা যায়, ভোট মিটলে আর দেখা নেই।” ময়ূরেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ রায় আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় জানান যে, দুধকুমার মণ্ডল দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে কার্যত নিরুদ্দেশ ছিলেন। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে না থেকে এখন ভোটের স্বার্থে তিনি হঠাৎ ‘ধূমকেতুর মতো’ উদয় হয়েছেন এবং নির্বাচন শেষ হলেই আবার অদৃশ্য হয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ের মুখ দেখেননি দুধকুমার মণ্ডল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১৯ সালের পর তিনি একপ্রকার সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। এই দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর ময়দানে ফেরাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বীরভূমের রাজনীতি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাকি সময় তিনি কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন, যা অনেকটা মরুভূমির মরীচিকার মতো।
তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ ও কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়েছেন বোলপুর সাংগঠনিক বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিজেপি নিঃস্বার্থভাবে সারা বছরই মানুষের পাশে থাকে, কারো দয়ায় দল টিঁকে নেই। তৃণমূল সস্তার রাজনীতি করে বাজার গরম রাখতে চাইছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন। ময়ূরেশ্বরের মাটিতে এখন দেখার বিষয়, দুধকুমার মণ্ডলের এই ‘ঘরোয়া’ প্রচার ভোটারদের মন জয় করতে পারে কি না।