সাথানকুলম হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, বিচারকে স্বাগত জানালেও ফাঁসির বিরোধিতায় অনড় কমল হাসান

তামিলনাড়ুর সাথানকুলমে পুলিশি হেফাজতে বাবা ও ছেলের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় ৯ জন পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ আদালত। ২০২০ সালের জুন মাসে লকডাউন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পি. জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে. বেন্নিক্সের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের স্মৃতি উসকে দিয়েছে এই রায়। এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও, নিজের দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থান থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান। সিবিআই তদন্তের পর বিশেষ আদালতের এই রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এক বিবৃতিতে কমল হাসান জানিয়েছেন, যাঁদের দায়িত্ব মানুষের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁদের হাতেই এমন চরম নৃশংসতা ভাবা যায় না। হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এই রায় তারই প্রতিফলন। তবে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি চিরকালই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। তাঁর মতে, জঘন্য অপরাধীদের কোনও রকম ছাড় ছাড়াই কঠোর পরিশ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া উচিত। এই ঘটনার ফলে দণ্ডিত পুলিশকর্মীদের নির্দোষ পরিবারগুলো যে চরম সংকটে পড়ল, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই প্রবীণ অভিনেতা।
কমল হাসান এই ঘটনার দায়ভার কেবল অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবস্থার গভীরে থাকা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ঘটনার সত্য গোপন করার চেষ্টা করা চিকিৎসক, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রিমান্ডের নির্দেশ দেওয়া কর্তৃপক্ষ এবং তৎকালীন শাসকদলের যে নেতারা এই মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে এবং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই মামলার প্রতিটি শৃঙ্খলে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানান, পদ বা প্রভাব যাই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ক্ষমতার নেশায় সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া এমন অমানবিক অত্যাচার নির্মূল করাই বিচারব্যবস্থার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বর্তমানে ‘ঠাগ লাইফ’ ছবির সাফল্যের পর রজনীকান্তের সঙ্গে নতুন প্রজেক্ট এবং ‘বিক্রম ২’ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান আবারও স্পষ্ট করলেন কমল হাসান। ন্যায়বিচারের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে শামিল হওয়া তদন্তকারী এবং আন্দোলনকারীদের প্রচেষ্টাকেও তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।