সান্দাকফুতে প্রবল তুষারপাত: আটকে শতাধিক পর্যটক, সিকিমেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শনিবার সকাল থেকে প্রবল তুষারপাতে সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে সান্দাকফুসহ সংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য এলাকা। রাস্তার ওপর প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফের স্তর জমে যাওয়ায় জওহরলাল নেহরু রোডের ১৫ মাইলের পরবর্তী অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সান্দাকফুর চড়াই-উতরাই পথে অন্তত শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বরফ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তুষারপাতের জেরে প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তর ও পূর্ব সিকিমের লাচেন, থাঙ্গু এবং গুরুদোংমার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তাগুলো বরফে ঢেকে যাওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত স্থগিত করা হয়েছে। ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন সাধারণের চলাচলের অযোগ্য। আবহাওয়া দপ্তর এই অকাল তুষারপাতকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উঁচু পার্বত্য এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পাশাপাশি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তরবঙ্গের সমতলে বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। বৃষ্টির সঙ্গে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চৈত্র মাসে এই অকাল বৃষ্টি ও তুষারপাতের জোড়া ফলায় যেমন পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন, তেমনই সমতলে কৃষিকাজ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।