সাপ থেকে মশা নিমেষেই উধাও বাড়ির আশেপাশে এই একটি গাছ লাগালেই

ঘর এবং তার সংলগ্ন আঙিনায় গাছ লাগাতে অনেকেই পছন্দ করেন। সুন্দর ফুল কিংবা ফলবতী গাছের শোভা যেমন মনের আনন্দ দেয়, তেমনই পরিবেশকেও সতেজ রাখে। তবে গাছ যে কেবল ঘর সাজানো বা খাবারের উৎস হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, তা নয়। প্রকৃতির এমন কিছু বিশেষ উদ্ভিদ রয়েছে যাদের তীব্র এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ বিষাক্ত সরীসৃপ ও পতঙ্গদের দূরে রাখতে সক্ষম। এমনই একটি অত্যন্ত পরিচিত গাছ আপনার বসতবাড়িতে সাপ, মশা, এমনকি আরশোলা বা টিকটিকির উপদ্রব পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে।
গ্রীষ্ম এবং বর্ষার মরসুমে বাড়ির আশেপাশে বিষাক্ত পোকামাকড় ও সাপের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে গরম থেকে বাঁচতে শীতল আশ্রয়ের খোঁজে সাপ অনেক সময় মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। ঠিক এই সময়েই মশার বংশবৃদ্ধি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। বাজারচলতি কয়েল বা স্প্রে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রাকৃতিক উপায় বেছে নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। এক্ষেত্রে গাঁদা গাছ একটি মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
গাঁদা ফুলের সৌন্দর্য ও এর ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। যেকোনো উৎসবে ঘর সাজাতে এই ফুল অপরিহার্য। কিন্তু অনেকরই অজানা যে, গাঁদা গাছের পাতা এবং ফুলের একটি নিজস্ব কড়া গন্ধ রয়েছে যা সাপ সহ্য করতে পারে না। যে সমস্ত বাড়িতে বা বাগানে প্রচুর পরিমাণে গাঁদা গাছ লাগানো থাকে, সেখানে সাপের প্রবেশের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। এই গন্ধ সাপের সংবেদনশীল স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে তারা ওই নির্দিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলে।
কেবল সাপ নয়, গাঁদা গাছের গুণাগুণ বহুমুখী। এই গাছের পাতার তীব্র গন্ধের কারণে মশা ও মাছি বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে চায় না। এছাড়া আরশোলা ও টিকটিকির মতো ঘরোয়া উপদ্রব কমাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী। প্রাকৃতিকভাবে কীটপতঙ্গ দমনের এই ক্ষমতা গাঁদা গাছকে বাগানের অন্যতম সেরা রক্ষাকবচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্বল্প যত্নে এবং কম খরচেই বাড়ির বারান্দা বা প্রবেশপথে এই গাছ লাগিয়ে চমৎকার ফল পাওয়া সম্ভব।
একইভাবে ল্যাভেন্ডার গাছও আপনার বাড়ির সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করতে পারে। ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধ মানুষের কাছে অত্যন্ত মনোরম হলেও মশা বা অন্যান্য ক্ষুদ্র পতঙ্গ এই গন্ধ থেকে দূরে থাকে। তাই প্রাকৃতিক সুরক্ষার পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশকে মনোরম ও সুগন্ধযুক্ত রাখতে গাঁদা বা ল্যাভেন্ডারের মতো গাছ লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ। এতে রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই আপনার ঘর হয়ে উঠবে নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত।