সাবানের কৌটোয় লুকানো ক্যামেরা! গুয়াহাটির নামী কলেজের ছাত্রীনিবাসে হুলুস্থুল

সাবানের কৌটোয় লুকানো ক্যামেরা! গুয়াহাটির নামী কলেজের ছাত্রীনিবাসে হুলুস্থুল

গুয়াহাটি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্দরেই কি তবে সুরক্ষিত নন ছাত্রীরা? আসামের গুয়াহাটিতে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স (TISS) ক্যাম্পাসের ছাত্রীনিবাসে গোপন ক্যামেরা উদ্ধারের ঘটনায় এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাথরুমের মতো ব্যক্তিগত পরিসরে সাবানের কৌটোর ভেতর ক্যামেরা লুকিয়ে রাখার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে আবাসিকদের মধ্যে।

বাথরুমের সাবানের কৌটোয় কী ছিল

বুধবার সকালে হোস্টেলের তৃতীয় তলার একটি বাথরুমে প্রথম বিষয়টি নজরে আসে এক ছাত্রীর। দেখা যায়, একটি সাবানের কৌটোর ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ছোট ক্যামেরা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর রাষ্ট্র হয়ে যাওয়ায় ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এভাবে লঙ্ঘিত হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেক পড়ুয়া।

তদন্তে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরেই কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হোস্টেলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় নির্দিষ্ট করে কেউ গ্রেফতার হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

ছাত্রীনিবাসে গোপন ক্যামেরা উদ্ধারের এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। অতীতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরণের নক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গুয়াহাটির এই নামী সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরাও। দ্রুত দোষীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *