সাবেক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের নামই নেই ভোটার তালিকায়, পূর্ব বর্ধমানে ব্যাপক শোরগোল

এক সময় প্রশাসনের উচ্চপদে আসীন থেকে সামলেছেন অসংখ্য নির্বাচন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। অথচ ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সংশোধনীতে নাম বাদ পড়ল পূর্ব বর্ধমানের সেই প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিনের। শুধু তিনি একাই নন, তাঁর স্ত্রী, নিকটাত্মীয়সহ গ্রামের দুই শতাধিক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামালপুর বিধানসভার তুরুক-ময়না গ্রামের এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তুরুক-ময়না গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ মতিন ১৯৭৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে বিডিও থেকে শুরু করে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে অতীতে বহুবার ভোটার তালিকা সংশোধন ও শুনানির কাজ পরিচালনা করেছেন তিনি। অথচ বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ রাখার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রায়না বিধানসভার আলমপুরের বাসিন্দা তথা বীরভূমের সংখ্যালঘু দপ্তরের এক আধিকারিকের নামও তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
প্রাক্তন ওই প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, কমিশনের শুনানি চলাকালীন তিনি নিজের চাকরির পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং পেনশনের নথিসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কয়েকশো মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মহম্মদ মতিনের পুত্র তথা পেশায় শিক্ষক মহম্মদ মোহিত জানান, এই বয়সে এসেও তাঁর বাবা-মাকে নিজেদের ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে লড়াই করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পদস্থ আধিকারিকের ক্ষেত্রেই যদি এমন বিভ্রাট ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা।