সারাদিন ঘরে বসে থাকেন গৃহবধূরা? অলস অপবাদ ঘুচিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল হাইকোর্ট

সারাদিন ঘরে বসে থাকেন গৃহবধূরা? অলস অপবাদ ঘুচিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল হাইকোর্ট

সমাজের চিরাচরিত মানসিকতায় সজোরে ধাক্কা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। এক বিবাহবিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ঘরের বউরা ‘অলস’ নন, বরং তাঁদের হাড়ভাঙা খাটুনিই সংসারের মূল ভিত্তি।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

  • অদৃশ্য শ্রমের স্বীকৃতি: উচ্চ আদালত জানিয়েছে, একজন স্ত্রী ঘর ও সন্তান সামলান বলেই স্বামী নিশ্চিন্তে বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেন। এই পরিশ্রম কোনো ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বা আয়কর নথিতে ধরা না পড়লেও তা আদতে ‘অমূল্য’।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা বনাম খোরপোষ: নিম্ন আদালত যুক্তি দিয়েছিল যে স্ত্রী শিক্ষিত হওয়ায় তিনি কাজ করতে সক্ষম, তাই খোরপোষ পাবেন না। এই নির্দেশ খারিজ করে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেন, উপার্জন করার ক্ষমতা থাকলেই কাউকে আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
  • গৃহবধূর ত্যাগ: স্বামীর বদলির চাকরির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং সন্তানদের বড় করার গুরুদায়িত্ব একজন গৃহবধূই পালন করেন।

হাইকোর্টের সাফ বার্তা, গৃহবধূদের কাজকে খাটো করে দেখার দিন শেষ। তাঁদের শ্রম আইনের চোখেও এখন পূর্ণ স্বীকৃত। নিম্ন আদালতের বিতর্কিত নির্দেশের ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *