সিইও অফিসের সামনে হাই-ভোল্টেজ ড্রামা! অভিষেক আসতেই ধুন্ধুমার ধর্মতলায়, সামলাতে হিমশিম কেন্দ্রীয় বাহিনী

নিউজ ডেস্ক : সপ্তাহের শুরুতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ধর্মতলার শিপিং কর্পোরেশন চত্বর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন— এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার দুপুর থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিইও অফিসের সামনে কার্যত দুর্গের মতো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একদিকে তৃণমূল কর্মীদের স্লোগান, অন্যদিকে বাহিনীর কড়া পাহারা— সব মিলিয়ে ভোটের মুখে এক নতুন হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটকের সাক্ষী থাকল শহর।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শান্তনু সেনের মতো প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা। দলীয় সূত্রের খবর, শুরুতে তিনজনের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে ভিতরে ঢুকবেন। এই দলে থাকার কথা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁদের আলোচনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দেখা করতে পারেন সিইও-র সঙ্গে।
তবে শুধু বৈঠক নয়, তৃণমূল শিবিরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। সিইও-র সঙ্গে আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, তবে শিপিং কর্পোরেশনের সামনেই ধর্নায় বসতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেখানেই তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বড় কোনও বার্তা দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের ভিড় ও স্লোগানে এলাকা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
আসলে এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ভোটার তালিকা। রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ, যার মধ্যে খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে ৫৮ লক্ষ নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের তথ্য এখনও খতিয়ে দেখছেন বিচারিক আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত কমিশন চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করলেও কতজনের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন এত নাম বাদ পড়ল বা কাদের নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়ে কমিশন কোনও স্বচ্ছতা রাখছে না। এই ধোঁয়াশা কাটাতে ও ভোটারদের উদ্বেগ দূর করতেই ময়দানে নেমেছে শাসক দল।