সিইও দফতরের সামনে ধুন্ধুমার কাণ্ড! ফর্ম ৬ নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত স্ট্র্যান্ড রোড

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো। ফর্ম ৬ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলপন্থী বিএলও এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জনৈক যুবক প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে একতাড়া ফর্ম ৬ নিয়ে সিইও অফিসে জমা দিতে আসেন। তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের অভিযোগ, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই যুবককে ‘হাতেনাতে’ ধরার দাবি তুলে তাঁরা রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী সেখানে পৌঁছান। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
দুপক্ষেরই স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। ধস্তাধস্তির জেরে বেশ কয়েকটি বাইক রাস্তায় উল্টে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কর্মীরা দলীয় পতাকা নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ যে বিজেপি বাইরের রাজ্যের ভোটারদের নাম এ রাজ্যের তালিকায় ঢোকানোর ষড়যন্ত্র করছে।
উল্লেখ্য, সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও দফতরে গিয়ে এই ফর্ম ৬ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্ট্র্যান্ড রোডের নতুন সিইও অফিসের সামনে বিকেল পর্যন্ত দুপক্ষের অবস্থান বিক্ষোভ বজায় থাকায় যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে জমা দেওয়া কাগজগুলো আদতে কী ছিল, তা নিয়ে এখনও কমিশনের তরফে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি মেলেনি।