সিঙ্গাপুরে তৈরি হচ্ছে বিশাল হিন্দু মন্দির, সরকারি জমিতেই দেখা মিলবে কৃষ্ণ ও আয়াপ্পা বিগ্রহের

সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। দেশের উত্তর অংশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান আধ্যাত্মিক চাহিদা মেটাতে সরকার একটি নতুন হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করেছে। যিশুন অ্যাভিনিউ ৩ এলাকায় নির্মিত হতে চলা এই মন্দিরটির নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী গুরুবায়ুরপ্পন আয়াপ্পান মন্দির’ (এসজিএটি)। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে নির্মিত আরুলমিগু ভেলমুরুগান জ্ঞানমুনিশ্বর মন্দিরের পর এটি হতে চলেছে সিঙ্গাপুরের ২৫তম হিন্দু মন্দির।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, এই বছর আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে। মন্দিরটি প্রধানত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ (গুরুবায়ুরপ্পন) এবং ভগবান আয়াপ্পাকে উৎসর্গ করা হবে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে এই দুই দেবতার জন্য পৃথক কোনো মন্দির নেই। শ্রী মহা মারিয়াম্মান মন্দির এবং পবিত্র বৃক্ষ বালাসুব্রমানিয়ার মন্দিরের পাশেই এই নতুন মন্দিরটি গড়ে উঠবে। হিন্দু অ্যাডভাইজরি বোর্ড এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সরকার এই জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই মন্দিরটির বিশেষত্ব হবে এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী। প্রথাগত উঁচু গোপুরম ধাঁচের পরিবর্তে মন্দিরটি কেরালার ঐতিহ্যবাহী শৈলীতে তৈরি করা হবে, যা প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া এখানে একটি ‘হারমনি সার্কেল’ বা সামঞ্জস্য বৃত্তের ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। মন্দির চত্বরে একটি বহুমুখী হল এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা ভবনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
সংস্কৃতি ও যুব বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীনেশ বাসু দাস জানান, সিঙ্গাপুরের উত্তর ভাগে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য এই মন্দিরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এখানে মূল বিগ্রহের পাশাপাশি অন্যান্য দেব-দেবীর পূজার ব্যবস্থাও থাকবে। বিশেষ করে যারা ভারতের সবরিমালা মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যান, তাদের জন্য এই মন্দিরটি প্রস্তুতির একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে। বয়স্ক ভক্তরা যারা সশরীরে সবরিমালা যেতে পারেন না, তারা এখানে এসে সেই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. শণমুগম জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের মালয়ালি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছাপূরণ হতে চলেছে এই মন্দিরের মাধ্যমে। তবে এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তামিল, উত্তর ভারতীয় এবং অন্যান্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও এই মন্দিরে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। কেরালার সবরিমালা এবং গুরুবায়ুর মন্দিরের মহিমা এখন সিঙ্গাপুরের মাটিতেই অনুভূত হবে। নতুন এই মন্দিরটি সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও মজবুত করবে।
প্রায় ৬০ লক্ষ জনসংখ্যার সিঙ্গাপুরে বর্তমানে ৭ শতাংশ মানুষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিশাল এই জনসংখ্যার ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক ঐক্যের কথা মাথায় রেখেই নতুন এই স্থাপত্য নির্মাণের পথে হাঁটছে সিঙ্গাপুর প্রশাসন। কেরালার অভিজ্ঞ পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে এই মন্দিরের পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি এই শ্রী গুরুবায়ুরপ্পন আয়াপ্পান মন্দিরটি আগামী দিনে সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।