সিজেআই সূর্যকান্তের নজিরবিহীন রুদ্রমূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি কর্তাদের দাপট থামাতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লি: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক বিভাগে দীর্ঘদিনের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ চূর্ণ করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির এক শ্রেণির আধিকারিকের কর্মপদ্ধতি নিয়ে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, আদালতের অন্দরে কোনোভাবেই আর কর্মকর্তাদের মনমানি বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত করা হবে না। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানির সময় রেজিস্ট্রির কার্যকলাপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গোটা বিষয়ের ‘তদন্ত’ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কী ঘটেছিল সুপ্রিম কোর্টে?
আদালত সূত্রে খবর, একটি নির্দিষ্ট আবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি চলছিল। সেই সময় সিজেআই জানতে পারেন, যে আবেদনটি ইতিপূর্বেই তিন বিচারপতির বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় কৌশলে অন্য একটি বেঞ্চের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক এই চরম গাফিলতি এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করার বিষয়টি সামনে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে যান প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এরপরই তিনি এজলাসে উপস্থিত সকলের সামনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন।
আধিকারিকদের মানসিকতা নিয়ে কড়া তোপ
রেজিস্ট্রিতে বছরের পর বছর ধরে জেঁকে বসা আধিকারিকদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “রেজিস্ট্রিতে এমন কিছু আধিকারিক আছেন যারা গত ২০-৩০ বছর ধরে এখানে রয়েছেন। তাদের ধারণা হয়েছে যে আমরা (বিচারপতিরা) এখানে কেবল অস্থায়ী বা ট্রানজিট হিসেবে আসি, আর তারাই স্থায়ী। তাই সবকিছু তাদের মর্জিমাফিক চলা উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সম্প্রতি বেশ কিছু প্রশাসনিক সংস্কার করা সত্ত্বেও কিছু আধিকারিক প্রতিষ্ঠিত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের মর্জিমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘কর্তব্যে ব্যর্থ হব যদি ব্যবস্থা না নেই’
বিচারবিভাগীয় প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রধান বিচারপতির এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নিজের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি যদি আমার পদ ছাড়ার আগে এই ব্যবস্থাটি সংশোধন করে দিয়ে না যাই, তবে ধরে নিতে হবে আমি আমার কর্তব্যে ব্যর্থ হয়েছি।”
দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে জবাবদিহির অভাব এবং কাজের পদ্ধতিতে অস্বচ্ছতা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। সিজেআই সূর্যকান্তের এই পদক্ষেপ মূলত বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ আদালতের প্রশাসনিক স্তম্ভকে আরও দায়বদ্ধ করার একটি জোরালো প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের নির্দেশের পর আদালতের অন্দরে কর্মরত পুরনো আমলাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।