সিন্ধু লিপির রহস্য উন্মোচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৪০০০ বছরের প্রাচীন ধাঁধার কি সমাধান হবে?

সিন্ধু লিপির রহস্য উন্মোচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৪০০০ বছরের প্রাচীন ধাঁধার কি সমাধান হবে?

সিন্ধু সভ্যতার ৪০০০ বছরের পুরনো রহস্যময় লিপিগুলোর পাঠোদ্ধার আজও গবেষকদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানে প্রাপ্ত পাথর ও পোড়া মাটির ফলকগুলোতে খোদাই করা এই চিহ্নগুলোর প্রকৃত অর্থ এখনও অজানা। ‘ইউ’ আকৃতির চিহ্ন, চাকা বা জ্যামিতিক হিরের মতো প্রায় ১০০টি প্রতীকের পাঠোদ্ধার নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া লিপিগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট ভাষার অভাবের কারণে এই জট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সম্প্রতি গবেষক মাইকেল ফিলিপ ওকস এবং স্টিভ বন্টা এই লিপিগুলোর গঠনশৈলী নিয়ে নতুন আলোকপাত করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই লিপিগুলোতে ব্যবহৃত উল্লম্ব রেখাগুলো সম্ভবত কোনো সংখ্যা পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। যদিও নব্বইয়ের দশকে একবার পাঠোদ্ধারের দাবি উঠেছিল, বৈজ্ঞানিক মহলে তা সর্বজনগৃহীত হয়নি। বর্তমানে গবেষকরা ডেটা মাইনিং ও সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে এই প্রতীকগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করছেন, যা প্রাচীন এই লিপিগুলোর রহস্যভেদে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

এই জটিল ধাঁধা সমাধানে এখন ভরসা হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নেব্রাস্কা-লিঙ্কন ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মতে, এআই এই লিপিগুলোর নির্দিষ্ট ধরন শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব গবেষকদের হাতেই থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যদি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ কোনো লিপি বা ফলক আবিষ্কৃত হয়, তবেই হয়তো প্রযুক্তির সহায়তায় সিন্ধু সভ্যতার এই হারানো ভাষার পূর্ণাঙ্গ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *